মেনু নির্বাচন করুন

হাইমচর রক্ষা বাঁধ

চাঁদপুর, ৩ মার্চ, ২০১৪ (বাসস) : জেলাকে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার জন্য চাঁদপুর-হাইমচর রক্ষা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার দুই স্তরে ২৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে চাঁদপুর শহর রক্ষার জন্য ১৫৫ কোটি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে হাইমচর উপজেলা রক্ষার জন্য ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁদপুর শহর প্রকল্পে ৪.৪ কিলোমিটার এবং হাইমচর উপজেলায় ৬.৪ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ দু’টি প্রকল্পের ৯৫ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই দু’টি প্রকল্পে ১০.৮ কিলোমিটার এলাকা পাথরের ব্লক দিয়ে নদী সমান্তরালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে নদী তীর সংরক্ষণ করা হয়। এরপর ২ ক্যাটাগরীর পাথরের ব্লক ফেলা হয়। নদীতীরে ২ ধরনের ব্লক দিয়ে এর নির্মাণ কাজ করা হয়। চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত এবং হাইমচরের কাটাখালী থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত মেঘনা তীরবর্তী ১০.৮ কিলোমিটার এলাকা এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিন প্রায় পাঁচশত লোক দিনরাত এ প্রকল্পের কাজ করছে। চলিত বছরেই জুন মাস নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ সমাপ্ত হবে।
এ সরকারের আমলে ২০১০-২০১১ অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কাজ নতুন করে শুরু হয়। চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ডা. দীপু মনির আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন কৃষ্ণ দাস জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অধীন প্রায় পাঁচ লাখ লোক এ প্রকল্প দ্বারা উপকৃত হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। বছরে প্রায় ছয়শ’ কোটি টাকার কৃষি ও সম্পদ রক্ষা পাবে। ইতিমধ্যে এলাকার কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জমির দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ প্রকল্পের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িক হলে চাঁদপুর ও হামইচর স্থায়ীভাবে নদীভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এ বাঁধ বরাবর একটি স্থায়ী রাস্তাও নির্মিত হবে যা চাঁদপুর শহর থেকে দক্ষিণে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার লোকজন যাতায়াত করতে পারবে। এ রাস্তার পাশে বনায়ন করা হবে এবং পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে একটি পার্কও নির্মান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে চাঁদপুর অচিরেই একটি পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের কার্যক্রম বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গ্রহণ করে। ১৯৭২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখার জন্য চাঁদপুরে আসেন এবং এ নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর শহর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিবছরই শহর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলতে থাকে। ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৬৫ কোটি টাকা প্রকল্পে ব্যয় হয়। অর্থনৈতিক কারণে পূর্বে স্থায়ীভাবে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।


Share with :

Facebook Twitter